নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস

শক্তির উৎসকে সাধারণত নবায়নযোগ্য (Renewable) এবং অনবায়নযোগ্য (Non-renewable) এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এই শ্রেণিবিভাগ নির্ভর করে কোনো শক্তির উৎস প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় সৃষ্টি হতে পারে কি না তার উপর। মানব সভ্যতার শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনে এসব শক্তির উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস

নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে সেই শক্তিকে বোঝায় যা প্রকৃতিতে ক্রমাগত পুনর্নবীকরণ হয় এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পরও নিঃশেষ হয়ে যায় না।

প্রধান উৎস

১. সৌর শক্তি (Solar Energy)
সূর্য থেকে আগত বিকিরণ শক্তিকে সৌর শক্তি বলা হয়। সৌর কোষ বা ফটোভোল্টাইক সেল ব্যবহার করে সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।

২. বায়ু শক্তি (Wind Energy)
বায়ুর গতিশক্তি থেকে উৎপন্ন শক্তিকে বায়ু শক্তি বলা হয়। বায়ু টারবাইনের মাধ্যমে এই শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।

৩. জলবিদ্যুৎ শক্তি (Hydroelectric Energy)
নদী বা বাঁধে সঞ্চিত পানির প্রবাহের শক্তি থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। পানির প্রবাহ টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

৪. ভূ-তাপীয় শক্তি (Geothermal Energy)
পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ শক্তিকে ভূ-তাপীয় শক্তি বলা হয়। ভূগর্ভস্থ গরম পানি বা বাষ্প ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

৫. বায়োমাস শক্তি (Biomass Energy)
কাঠ, কৃষি অবশিষ্টাংশ, প্রাণীর বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ থেকে উৎপন্ন শক্তিকে বায়োমাস শক্তি বলা হয়। এগুলো পুড়িয়ে বা বায়োগ্যাসে রূপান্তর করে শক্তি উৎপাদন করা যায়।

বৈশিষ্ট্য

  • পরিবেশবান্ধব

  • পুনরায় উৎপন্ন হয়

  • দূষণ তুলনামূলক কম


২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস

অনবায়নযোগ্য শক্তি হলো সেই শক্তির উৎস যা প্রকৃতিতে সীমিত পরিমাণে বিদ্যমান এবং একবার ব্যবহার করলে দ্রুত পুনরায় সৃষ্টি হয় না।

প্রধান উৎস

১. কয়লা (Coal)
প্রাচীন উদ্ভিদের অবশেষ থেকে লক্ষ লক্ষ বছরে কয়লা তৈরি হয়েছে। এটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

২. পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল (Petroleum)
ভূগর্ভ থেকে প্রাপ্ত তরল জ্বালানি। এটি থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি উৎপন্ন হয়।

৩. প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas)
মূলত মিথেন গ্যাস নিয়ে গঠিত। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন, রান্না ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়।

৪. পারমাণবিক শক্তি (Nuclear Energy)
ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া থেকে এই শক্তি উৎপন্ন হয় এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়।

বৈশিষ্ট্য

  • সীমিত মজুদ

  • তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর লাগে

  • ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি পায়